বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ইতিহাসের কথা উঠলেই যে জায়গাটির নাম না বললেই নয়, সেটি হলো বগুড়া। মহাস্থানগড়ের মতো প্রাচীন সভ্যতার পাশাপাশি বগুড়ার বুকে আজও দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য ইসলামি স্থাপনা—খেরুয়া মসজিদ।

খেরুয়া মসজিদ - বগুড়া শেরপুর। 

এই মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, স্থাপত্য আর ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।

খেরুয়া মসজিদ কোথায় অবস্থিত?

খেরুয়া মসজিদ বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায়, শেরপুর–ধুনট সড়কের পাশে অবস্থিত। শহর থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

নির্মাণকাল ও ইতিহাস:

ইতিহাসবিদদের মতে, খেরুয়া মসজিদ নির্মিত হয় ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে। মসজিদটি নির্মাণ করেন তৎকালীন মোগল শাসনামলের এক প্রভাবশালী প্রশাসক। এটি মূলত সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে তৈরি, যা বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্যে বিরল উদাহরণ। প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।

স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য:

খেরুয়া মসজিদের স্থাপত্য খুবই সংযত কিন্তু শক্তিশালী।
  • তিন গম্বুজ বিশিষ্ট কাঠামো
  • পুরু ইটের দেয়াল
  • দেয়ালে টেরাকোটা ও কারুকার্যের চিহ্ন
  • পূর্ব পাশে খিলানযুক্ত দরজা
  • ভেতরে সুন্দরভাবে নির্মিত মিহরাব
এই মসজিদের গম্বুজ ও দেয়ালের নকশা আজও প্রমাণ করে, সে সময়ের কারিগররা কতটা দক্ষ ছিলেন।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে খেরুয়া মসজিদের কিছু অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবুও আরও যত্ন ও সচেতনতা প্রয়োজন।

Heritrails Foundation মনে করে—
“ঐতিহ্য সংরক্ষণ মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসকে নিরাপদ রাখা।”
এই ধরনের স্থাপনা রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

Heritrails Foundation এর আহ্বান:

আমরা চাই—
  • বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থাপনার তথ্য সংরক্ষণ হোক
  • স্থানীয় মানুষ ঐতিহ্যের গুরুত্ব বুঝুক
  • পর্যটনের মাধ্যমে ঐতিহ্য টিকে থাকুক
খেরুয়া মসজিদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

ভ্রমণ তথ্য (সংক্ষিপ্ত):

  • জেলা: বগুড়া
  • উপজেলা: শেরপুর
  • যাতায়াত: বগুড়া শহর থেকে বাস/রিকশা/ভ্যান
  • সময়: সকাল থেকে সন্ধ্যা
  • প্রবেশ মূল্য: নেই

Heritrails Foundation
Exploring, Preserving & Protecting Bangladesh’s Heritage